ভালোবাসা দিবসের ইতিবৃত্ত

ভালোবাসা দিবসের ইতিবৃত্ত

ধারণা করা হয় ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত অনুভূতি এবং দুর্লভ আবেদন। প্রাণী জগতের সব প্রাণের মাঝে ভালোবাসার উপস্থিতি অনুভূত হলেও কেবল মানুষই একে জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে নিয়েছে। কখন, কিভাবে এই ভালোবাসার উৎপত্তি তা জানা সম্ভব কি না তা আমার জানা নেই। তবে এটুকু বুঝতে পারি যে, ভালোবাসা প্রাগৈতিহাসিক এবং অব্যক্ত অনুভূতি।

কয়েক শতাব্দী ধরে ভালোবাসা নামের অদেখা, অব্যক্ত অনুভূতিকে মহিমান্বিত করতে, স্মরণীয় করতে প্রতি বছর বিশেষ একটি দিবস উদযাপন করা হয়। দিবসটি হলো “ভ্যালেন্টাইন্স ডে”। দিনটি ইংরেজিতে ১৪ই ফ্রেব্রুয়ারি, বাংলায় ২য় ফাল্গুন। অনেকে বলে থাকেন- ভালোবাসাকে উদযাপন করার জন্য, মহিমান্বিত করার জন্য বিশেষ দিবস বা ভালোবাসা দিবসের কোন প্রয়োজন নেই। তবে অনুসন্ধিৎসু পাঠক মাত্রই জেনে থাকবেন এর একটি অতি পুরোনো ইতিহাস রয়েছে যে কবে, কোথায়, কখন, কেন Valentine Day উদযাপন শুরু হয়েছে। ভ্যালেন্টাইন ডে নিয়ে পৃথিবীজুড়ে অনেক গল্প প্রচলিত রয়েছে। আজ একটি গল্প আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো।

গল্পটা রোম দেশের। তখন মানে ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের দিকে দ্বিতীয় ক্লডিয়াস ছিলেন রোমের সম্রাট। রোমানরা একের পর এক রাষ্ট্র জয় করছিল। আর এজন্য প্রয়োজন ছিল শক্তিশালী সেনাবাহিনী। তবে পুরুষদের নিয়ে সেনাবাহিনী গঠনে যেসব সমস্যা দেখা দেয় তার মধ্যে অন্যতম ছিল তরুণীরা তাদের ভালোবাসার পুরুষটিকে যুদ্ধে যেতে দিতে চাইতো না। তখন সম্রাট ক্লডিয়াস রাজ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ করে দেন। কিন্তু আইন করে কী প্রেম-ভালোবাসা বা তারুণ্যকে বেঁধে রাখা যায়? তখনই এগিয়ে এলেন রোমান ক্যাথলিক ধর্মযাজক ও চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। সন্তো ভ্যালেন্টাইন সকল তরুণ-তরুণীকে এক করে বিয়ের ব্যবস্থা করলেন। তবে এ রীতি বেশিদিন অবশ্য চলতে দেয়া হয়নি। সম্রাট ক্লডিয়াস ভ্যালেন্টাইনকে বন্দী করলেন। ভ্যালেন্টাইনকে বন্দী করে ক্লডিয়াস পড়লেন নতুন সমস্যায়। ভ্যালেন্টাইনের ভক্ত অনুরাগীরা দলে দলে তাকে দেখতে কারাগারে আসতে থাকেন। তারা অনুরাগের চিহ্ন হিসেবে নানা ধরনের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে আসতো। অনুরাগীদের মধ্যে একজন অন্ধ মেয়ে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিল। শোনা গিয়েছে ভ্যালেন্টাইন মেয়েটির অন্ধত্ব দূর করে তার প্রেমে আবদ্ধ হন এবং তাকে জীবন সঙ্গিনী করেন। সম্রাট এই সংবাদ শুনে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার পূর্বে তার প্রিয়তমাকে লেখা শেষ চিঠিতে লিখেছিলেন “Love form your Valentine”. সে দিনটি ছিল ১৪ই ফেব্রুয়ারি। ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ গেলাসিয়াস ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগের আদর্শকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রথম ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৭০০ শতাব্দীর দিকে ব্রিটেনে ভ্যালেন্টাইন ডে জনপ্রিয়তা লাভ করে। তখন ব্রিটেনে শুরু হয় হাতে লেখা কার্ড অথবা উপহার বিনিময়। ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে বাণিজ্যিকভাবে “ভালোবাসা দিবস” এর উপহার বানানো শুরু করেন এস্থার এ হাওল্যান্ড। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো ভ্যালেন্টাইন কার্ডটি লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আজও সংরক্ষিত রয়েছে। প্রেমের সুরায় আসক্ত কেউ দেখে আসতে পারেন। আপনিও সৃষ্টি করতে পারেন ভ্যালেন্টাইনের নতুন ইতিহাস।

সে যাই হোক, ভালোবাসা দিবস উদযাপন নিয়ে মতানৈক্য যাই থাকুক না কেন ভালোবাসা ছিল, আছে এবং থাকবে অনন্তকাল।

ভালোবাসা দিবসকে নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রচলিত অন্য গল্পগুলো অন্য কোন লেখাতে শেয়ার করবো। ভালো লাগলে লাইক এবং শেয়ার করুন। কোন মন্তব্য থাকলে কমেন্ট বক্সে লিখে ফেলুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 + 7 =