ভ্রমণ যাবার আগে জেনে নিন

“ট্রাভেল বা ভ্রমণ” শব্দটি মনে পড়লেই কল্পনায় হলেও অনুভব করা যায় সীমাহীন আনন্দ-উল্লাস। ভ্রমণ পছন্দ করেন না এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে। কর্মব্যস্ত জীবনে একঘেয়েমি দূর করতে ভ্রমণের বিকল্প উপায় খুব কমই আছে। দিগন্ত জোড়া সবুজ, সাগরের উত্তাল ঢেউ, পাহাড়-নদী-প্রকৃতির মাঝে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নেয়ার প্রশান্তি যেন বর্ণনাতীত।

যদি কেউ প্রশ্ন করেন যে, কেন ভ্রমণ করা প্রয়োজন? তাকে বলবো ব্যক্তি জীবনের স্ট্রেস কমাতে, সামাজিক দক্ষতা উন্নয়নে, ধৈর্যশক্তি বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং জ্ঞানার্জন এবং ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে ভ্রমণ হলো টনিক।

ভ্রমণের আনন্দ পরিপূর্ণরূপে উপভোগ করার জন্য হুটহাট সিদ্ধান্ত না নিয়ে অবশ্যই পূর্ব পরিকল্পনা করতে হবে। অপরিকল্পিত ভ্রমণে আপনি ঝামেলার সম্মুখীন হতে পারেন। ফলে ভ্রমণানন্দ মাটি হয়ে যেতে পারে। তাই জেনে নিন কিভাবে কেমন প্রস্তুতি নেবেন।

ব্যাগ বা ট্রলি নির্বাচন

অনেকেই আলাদা আলাদা ব্যাগ নিয়ে থাকে। যেমন- মেকআপ ব্যাগ, সু-ব্যাগ, মিনি ট্রালি ইত্যাদি। এই টেন্ডেন্সি আপনাকে পেইন দিতে পারে। তাই ভ্রমণে কয়েকটা ব্যাগ না নিয়ে একটা ব্যাগ বহন করুন। এতে জিনিসপত্র হারানোর সম্ভাবনা থাকবে না। ব্যাগটা হতে হবে ওজনে হালকা, মজবুত এবং ওয়াটারপ্রুফ। তবে খুব বড় ব্যাগ কখনোই নয়।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস বহন না করাই ভালো

খুব প্রয়োজন নেই এমন জিনিস দিয়ে ব্যাগ ভারী করলে পরিবহনজনিত কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে। ভ্রমণ কখনোই বেডরুমের মতো আরাম আয়েশের জন্য নয়। দূর্গম পথে হাঁটাহাঁটি করা, ছুটাছুটি করাই ভ্রমণের আনন্দ। তাই এ আনন্দ নষ্ট করতে না চাইলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস বহন না করার পরামর্শ। মেয়েরা এক্ষেত্রে একটু বেশি সমস্যায় পড়ে। কারণ, তাদের বেশি জিনিসপত্র প্রয়োজন হয়। যতটুকু সম্ভব কম কম এবং কম জিনিসপত্র বহন করুন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ট্রাভেলাররা প্রায়ই একটি ভুল করে থাকেন। তা হলো প্রয়োজনীয় কাগজ বাসায় ফেলে বেরিয়ে পড়া, যেমন- পাসপোর্ট, ভিসা, গাড়ি-ট্রেন বা প্লেনের টিকিট, ব্যক্তিগত পরিচয় পত্র, কিভাবে যাবেন সেই গাইডলাইনের কপি ইত্যাদি। তাই বেড়োনোর আগেই ব্যাগে ঢুকিয়ে নিন এসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। না হয় বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে। এসবের জন্য ব্যবহার করতে পারেন ট্রাভেল কিটস ব্যাগ

নির্বাচিত যায়গার হাল হকিকত

আপনি যে যায়গায় ভ্রমণ করতে যাবেন সেখানে যাওয়া-আসা-থাকা-খাওয়ার সব বিষয় ভালোভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন। জেনে নিন থাকার যায়গা আগে থেকে বুকিং দেয়া লাগবে, না কি গিয়েও বুকিং দেয়া যাবে। নিরাপদে যাওয়া-আসার জন্য রাস্তা এবং পরিবহনের খোঁজ নিয়ে নিন। ভ্রমণের যায়গা শিশুদের জন্য কতটা নিরাপদ তা জেনে নিন। ছোট শিশু সঙ্গে না থাকলে তো সমস্যা চুকে গেল। এসব বিষয় আগে থেকে জানতে বলার কারণ হলো যদি আপনি না যেনে যান হয়তো বা নিরবিচ্ছিন্ন আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন না।

টুকিটাকি ডিভাইস কিন্তু দরকারি

ছবিঃ টুকিটাকি ডিভাইস

মোবাইল ছাড়া বর্তমানে চলা অসম্ভব। তাই মোবাইল ফোন তো নিবেনই, সঙ্গে চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে নিন। সম্ভব হলে একটি অতিরিক্ত ব্যাটারিও নিতে পারেন। ভ্রমণের আনন্দময় মুহূর্তগুলো স্মৃতির পাতায় বন্দী করে রাখতে সঙ্গে নিতে পারেন ক্যামেরা। মোবাইল এবং ক্যামেরার সেফটির জন্য সঙ্গে নিতে পারেন সেফটি কাভার

দূর্গম যায়গা হলে লাইটার এবং এন্টিমস্কিউটো রিপল্যান্ট সঙ্গে রাখা ভালো। সঙ্গে নিন ট্রাভেল টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, সাবান, শেম্পু, আয়না-চিরুনী, টর্চ লাইট, ট্রাভেল ওয়াটার পট

ফার্স্ট এইড দিতে পারে সুরক্ষা

ছবিঃ ফার্স্ট এইড

যাত্রাপথে বা বন-জঙ্গলে ফার্স্ট এইড সাথে থাকলে আপনি অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবেন। এজন্য সাথে রাখতে পারেন এন্টিসেপটিক ক্রিম, খাবার স্যালাইন, প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট, অ্যান্টাসিড, বমি বন্ধের জন্য ইমিস্টিড এবং হঠাৎ পাতলা পায়খানা বন্ধ করার জন্য ইমোটিল বা মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট। সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা পেতে সঙ্গে রাখতে পারেন সানস্কিৃন ক্রীম। ওষুধ গুলোকে এক যায়গায় রাখতে ব্যবহার করুন মেডিসিন স্টোরেজ বক্স অথবা ট্রাভেল কিটস ব্যাগ।

পোশাক-আশাক

ভ্রমণে পোশাক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যেখানে ঘুরতে যাবেন সেখানের আবহাওয়া বুঝে পোশাক সঙ্গে নিন। যদি শীতপ্রবণ এলাকা হয় তবে হালকা ওজনের শীতের পোশাক সঙ্গে নিন। আর গরম আবহাওয়া হলে তো হালকা পোশাকই নিবেন। যদি দীর্ঘ সময় পায়ে হাঁটার রাস্তা হয় তবে সাদা রঙ্গের পোশাক নিন। ভ্রমণে যেহেতু ছবি তোলার বিষয় থাকে সেহেতু উজ্জ্বল রঙ্গের পোশাক সঙ্গে নিন। কারণ, উজ্জ্বল রঙের পোশাকে ক্যামেরা লুক ভালো আসে। তবে বনাঞ্চলে ভ্রমণের জন্য উজ্জ্বল রঙের পোশাক এড়িয়ে চলুন। নদী বা ঝর্ণায় গোসলের জন্য শর্ট প্যান্ট সঙ্গে নিন। গামছা তো অবশ্যই নিবেন। তোয়ালে না নেয়াই ভালো। তোয়ালে গামছার তুলনায় মোটা হয়। ফলে শুকাতে বেশি সময় নেয়।

অতিরিক্ত সতর্কতা

আরামদায়ক কেডস ব্যবহার করুন। মেয়েরা হাই হিল জুতা ব্যবহার এবং স্বর্ণের জিনিস ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। একটি কার্ডে আপনার নাম-ঠিকানা লিখে ব্যাগে রাখুন। এতে ব্যাগ হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রয়োজনের চেয়ে কিছু বেশি টাকা সঙ্গে নিন। হঠাৎ টাকার প্রয়োজন হলে খুবই উপকারে আসবে। যেকোন বিপদে জরুরি সহযোগিতার জন্য ন্যাশনাল ইমারজেন্সি হেল্পলাইন ৯৯৯ নাম্বারে কল করুন।

আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে ভিজিট করুন যাদরো। বাসায় বসে অর্ডার করুন বাসায় বসে ডেলিভারী নিন। ভ্রমণকে আরামদায়ক করতে অথবা ট্রাভেল এক্সেসোরিজ বিষয়ে কোন মন্তব্য থাকলে কমেন্ট বক্সে জানান।

আজ এখানেই কলমের নিব বন্ধ করছি। আপনার ভ্রমণ হোক আনন্দময় এবং নিরাপদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 1 =