করোনা ভাইরাসের কারণ লক্ষণ ও প্রতিকার

বাঁচতে হলে জানতে হবে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে

সম্প্রতি চীনে শনাক্ত হয়েছে রহস্যময় করোনা ভাইরাস। গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে এ ভাইরাসটি চিহ্নিত হবার পর বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত ৭৭১১ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং ১৭০ জনের মতো মৃত্যুর কোলে পতিত হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকগণ ধারণা করছেন যে, এ ভাইরাসের মূল উৎস হতে পারে বিষধর চাইনিজ ক্রেইট বা চাইনিজ কোবরা। তবে সামুদ্রিক মাছ এবং গৃহপালিত প্রাণী থেকেও এ ভয়াল ভাইরাস ছড়াতে পারে। করোনা ভাইরাস চীনের পাশাপাশি জাপান, থাইল্যান্ড, হংকং, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারত পর্যন্ত ছড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যেও ১৪ জনকে আক্রান্ত সন্দেহে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এখনই বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সচেতনতার বিকল্প নেই।

করোনা ভাইরাস

করোনা এমন একটি ভাইরাস যা শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। ডব্লিউএইচও অস্থায়ীভাবে নতুন এ ভাইরাসের নাম দিয়েছে ‘২০১৯-এনসিওভি’ (2019 NCOV) ।

করোনার লক্ষণসমূহ

এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত গায়ে জ্বরজ্বর অনুভূত হবে, মাথাব্যথা, গলাব্যথা হবে, গায়ে ফোসকার মতো দেখা যাবে, র‌্যাশ দেখা যাবে, ঠাণ্ডা সর্দি সহজে সারবে না। এ ভাইরাসের উপসর্গগুলো অনেকটা নিউমোনিয়ার মতো। এক সপ্তাহের বেশি এ অবস্থা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার উপায়

চিকিৎসক এবং গবেষকগণ স্পষ্টভাবে জানার চেষ্টা করছেন যে কীভাবে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে এবং সংক্রমিত হচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কথা ধারণা করা হলেও কীভাবে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে স্থানান্তর হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। ভাইরাসটি যদি হাঁচি-কাশির মাধ্যমেই ছড়িয়ে থাকে, তবে মুখে মাস্ক অবশ্যই কিছুটা সুরক্ষা দেবে। এ ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের ভাইলযুক্ত ফেসমাস্কগুলো কাগজের সার্জিক্যাল মাস্কগুলোর চেয়ে বেশি কার্যকর। যেহেতু হাঁচি-কাশির ফোঁটাগুলো বাতাসে ভেসে অন্য মানুষকে স্পর্শ করে, তাই ঘনঘন হাত ধোয়াও কার্যকর হতে পারে।

১. দিনে অন্তত ১০ বার সাবান বা হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত ধুতে হবে, বাইরের পোষাক ঘরে ঢুকেই বদলে ফেলুন। এই ভাইরাস পোষাকে,  ভূমিতে, লিফটে, মোবাইল স্ক্রিনে থাকতে পারে। পাব্লিক প্লেসে থাকে সারফেস এরিয়াতে।

২. বাচ্চাদের আক্রান্ত হবার ইনসিডেন্স রেট( আক্রান্তের হার) খুব কম। Under 6 years বাচ্চারা রেয়ারলি আক্রান্ত হয়। তাই বাচ্চাদের ব্যাপারে আতংকিত হবে্ন না।

৩. অন্য ভাইরাল ফ্লুয়ের মতো এই ভাইরাল ফ্লুও সেল্ফ লিমিটিং। ৭ দিন পর হয়তো এমনিই সেরে যাবে আপনি টের ও পাবেন না। তাই প্যানিকড হবেন না। রোগে কম মরে মানুষ, গুজবে মরে বেশি।

৪. সন্দেহজনক মনে হলে, কিংবা পরীক্ষা নিরীক্ষায় ধরা পরলে আইসোলেটেড থাকুন ১৪ দিন পর্যন্ত। এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিওড বা সুপ্তিকাল ১৪ দিন

৫. যাদের ডায়বেটিস, কিডনি ডিজিজ, হাইপারটেনশন বা অন্য কোন রোগ আছে আগে থেকে যেটাকে Co morbidity বলে তারা করোনায় আক্রান্ত হলে উপযুক্ত ম্যানেজমেন্ট না হলে মৃত্যহার বেশি

করোনায় আক্রান্ত হলেই কেউ মারা যাবে এটা গুজব। মর্টালিটি রেট এভারেজে ২%, আমাদের দেশে প্রতিদিন শুধু সড়ক দুর্ঘটনায় এরচেয়ে বেশি মানুষ মারা যান।

তাই আতংকিত না হয়ে সচেতন হন।

করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা

এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কোন প্রকার ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। তাই সচেতনতার কোন বিকল্প নেই বলে মনে করছেন চিকিৎসকগণ। এমআরএনএ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক মোদার্না বলেছে, করোনা  ভাইরাসের জন্য একটি ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু করতে তারা কোয়ালিশন ফর ইপিডেমিক প্রিপার্ডনেস ইনোভেশন থেকে অনুদান পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ স্ট্রেনের বিরুদ্ধে একটি ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছেন। যেভাবে করোনা ভাইরাস রুখতে ভ্যাকসিন তৈরির প্রচেষ্টা চলছে, তাতে কয়েক মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলক কিছু ভ্যাকসিন প্রস্তুত হতে পারে। যদিও ব্যাপক ব্যবহারের অনুমোদনের জন্য আরো সময় লাগবে।

আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা, ফলমূল এবং মাছ-মাংস ভালোভাবে ধুয়ে এবং সিদ্ধ করে খাওয়া, প্রাণীর কাছাকাছি না যাওয়াই উচিত হবে বলে গবেষকগণ মনে করছেন।

Comments

  1. a nice article on COVID-19.

    stay home, keep maintaining a 2-meter distance when we are outside of the home.

    we’ll try to save ourselves and the country of Bangladesh.

  2. Thanks a lot for sharing such an informative article with us.
    We must stay more cautious about the virus.
    Stay home, Stay safe.
    Let’s hope for the best.
    HDBD.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 1 =