সভ্যতার বিকাশ মানবিকতার নিকাশ

সভ্যতার বিকাশ মানবিকতার নিকাশ

পত্রিকার পাতা ওল্টালে কিংবা ফেসবুক নিউজফিডে বুড়ো আঙ্গুলের ডগায় প্রায়ই কিছু হৃদয়বিদারক আলোকচিত্রে চোখ আটকে যায়। যেখানে দেখা যায় এক নিষ্পাপ শিশু অন্নাভাবে, বস্ত্রাভাবে যবুথবু হয়ে আকাশপানে তাকিয়ে আছে জল বিনে চাতকের মতো। কখনও এক বৃদ্ধা মা তীব্র শীতে কুণ্ডলী পাঁকিয়ে বসে রয়েছে উষ্ণতা পাবার আশায়। চোখে প্রাগৈতিহাসিক কালের অব্যক্ত কষ্টের ছাপ; অকৃত্রিম প্রেমের নিনাদ।

প্রযুক্তির বরাতে কখনও জানা যায় নির্বাক চোখে তাকিয়ে থাকা মায়ের এক উচ্চ শিক্ষিত ছেলে রয়েছে। অনেক অর্থ-কড়ির মালিক। হয়তো কোনো এক মোহে ভুলে গেছেন জন্ম ঠিকানা। যে ঠিকানায় দশ মাস দশদিন পর অন্যের রক্তপাত ঘটিয়ে সূর্যের মতো উদিত হয়েছে। যে মা নিজে না খেয়ে, না পড়ে, দীর্ঘ কষ্টের মহাসিন্ধু পাড়ি দিয়ে নবাগত সন্তানকে তিলে তিলে বড় করেছেন, সেই মাকে কোন এক বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসার ঘটনাও হরহামেশাই নজরে আসে। যেন সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে মানবিক বোধের সলতে ক্রমেই নিভে যাচ্ছে। হৃদয়ের পরিসর ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসছে।

আবার জানা যায় যবুথবু হয়ে বসে থাকা নিষ্পাপ নাবালকেরও জন্মস্মৃতি। কোন এক মা সূর্যাস্তের সময় সঙ্গে বয়ে আনা লাগেজ থেকে সোহরাওয়ার্দী নামক উদ্যানের পাশে নর্দমায় ভূমিষ্ঠ করে জীবন সূর্যকে অস্তমিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শরৎ আকাশের ক্ষীণায়ু গোপন মেঘ কী আর সূর্যকে অস্তমিত করতে পারে! শুরু হয় নতুন সূর্যোদয় কিন্তু সে দীপ্তি না ছড়িয়ে যবুথবু রয়।

গত ৮ জানুয়ারি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার কালিকাপুর বাজারে কোন এক হতভাগ্য ছেলে তার জন্মদাত্রী মাকে ফেলে রেখে গেছেন। যেন এই মা তার/তাদের কাছে অভিশাপ। দূরে ফেলে রেখে মুক্তি পেয়েছে। স্থানীয় অনেকেই তাকে তীব্র শীতে কোকাতে দেখেছেন। অতপর ঈশ্বরদী থানা হৃদয়বান প্রশাসন তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসাসহ সব ধরনের সেবা শুশ্রুষা দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। যাদরো পরিবার এ মহৎ কাজের সহযোগী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছে।

আহ্বান জানাচ্ছে সকল সন্তানদের প্রতি, আর কোন মা যেন এরকম বঞ্চনার শিকার না হয়। মায়েদের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা সকল সন্তানদের জন্যই লজ্জাকর। সমাজের বিত্তবানগণ যেন তাদের সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে বিবেকি সমাজ তা প্রত্যাশা করে। যাদরো পরিবার এমন মায়েদের পাশে, নর্দমায় ফেলে আসা জীবনের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। Jadroo শুধুই তথাকথিত কোন অনলাইন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। যাদরো বিশ্বাস করে সুবিধা বঞ্চিত এবং ভাগ্যাহত থেকে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই তাদের পরিবারের সদস্য।

Jadroo প্রত্যাশা করে মানবিক বোধের সলতে যেন সবার জন্য প্রজ্জ্বলিত হয় সমান আলোয়। সবার মুখে ফোটে যেন অকৃত্রিম সুখের হাসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven + twenty =